বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ এবং জীব জগৎ

বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ এবং জীব জগৎ : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায় বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের প্রক্রিয়া ও পরিমাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবং দ্বিতীয় অধ্যায় জীব জগৎ এর শ্রেণিকরণ অপুষ্পক উদ্ভিদ, সপুষ্পক উদ্ভিদ, আবৃত জীবি উদ্ভিদ সহ মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ এবং জীব জগৎ সম্পর্কে জানতে পড়তে থাকো-

ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ের প্রথম অধ্যায় বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ের জীব জগৎ এর মৌলিক বিষয় শ্রেণিকরণ, সপুষ্পক ও অপুষ্পক উদ্ভিদ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্নের আজকে সমাধান করব।

আজকের প্রশ্নের আলোকে তোমরা ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ের দ্বিতীয় এসাইনমেন্ট এর কাজটি সহজে সমাধান করতে পারবে।

এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তোমরা নিজেদের মেধা মনন কে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব আঙ্গিকে একটি সুন্দর এসাইনমেন্ট তৈরি করে নিবে।

কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যায়-

আজকের পাঠ শেষে তোমরা নিন্মোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর করতে পারবে-

  • ১। বিজ্ঞান কি?
  • ২। উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য পানি দরকার কিনা তার পরীক্ষার জন্য বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপগুলো কি কি হবে?
  • ৩। তোমার একটি বইয়ের দৈর্ঘ্য ২০ সে.মি, প্রস্থ ১৫ সে.মি এবং উচ্চতা ১ সে.মি। এরূপ ৫০ টি বই এর আয়তন কত?
  • ৪। আধুনিক শ্রেণিকরণ পদ্ধতিতে অ্যামিবা ও মাশরুম কোন রাজ্যের অন্তর্গত, এদের বৈশিষ্ট্য লিখতে পারবে।
  • ৫। “সাইকাস, সুপারি গাছ, মস, কাঁঠাল গাছ, সরিষা” – ছকে উল্লেখিত উদ্ভিদগুলো কোন ধরনের, তাদের বৈশিষ্ট্য লিখতে পারবে।

তাহলে চলো বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়া যাক। মনোযোগ সহকারে তথ্যগুলো পড়ে নিজের মত করে ৬ষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ের ২য় অ্যাসাইনমেন্ট এর উত্তরগুলো গুছিয়ে লিখে নিবে।

১। বিজ্ঞান কি?

উত্তর: বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কিত জ্ঞান, যা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা সমর্থিত।

২। উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য পানি দরকার কিনা তার পরীক্ষার জন্য বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার ধাপগুলো কি কি হবে?

উত্তর: পরীক্ষণ: বেঁচে থাকার জন্য গাছের পানি দরকার কিনা তার পরীক্ষার পরীক্ষার্থী করতে যা যা দরকার-
ছোট ছোট দুটি পাত্র, ফুল গাছের দুটি চারা, পানী ও শুকনো মাটি।

পরীক্ষণ পদ্ধতি:
১. সমস্যা নির্ধারণ: পরীক্ষণ পদ্ধতির প্রথম ধাপ কি সমস্যা স্থির করা হয়। ফুল গাছের চারা তুলে এনে লাগালে মারা যাচ্ছে কেন?

২. জানা তথ্য সংগ্রহ: বই পড়ে, শিক্ষককে বা পিতা-মাতাকে জিজ্ঞেস করে জানার চেষ্টা করা কেন চারা গাছ মরে যেতে পারে। জিজ্ঞাসার পর জানা যায় যে, পানি না পেলে চারা গাছ মারা যেতে পারে।

৩. আনুমানিক/ অনুমিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: জানা তথ্য থেকে অনুমিত সিদ্ধান্ত নেয়া যায় পানির অভাবে চারা গাছ মারা যায়।

৪. পরীক্ষণ এর পরিকল্পনা: একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, এই পরীক্ষার জন্য দুটি পাত্রে দুটি গাছ নিতে হবে।

৫. পরীক্ষণ: ছোট দুটি একই রকম পাত্র নিতে হবে বা প্লাস্টিকের টব জাতীয় হলে ভালো হয়। পাত্র দুটির তলায় ছোট ছিদ্র করতে হবে। তারপর শুকনো মাটি দিয়ে পাত্র দুটি ভরে দিতে হবে। এবার একই ধরনের দুটি চারা পাত্রে রোপণ করতে হবে। একটি পে পানি এবং অপরটিতে শুকনা রাখতে হবে। গাছ দুটিকে একদিন ছায়ায় রেখে পরদিন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দেখা যাবে, একটি গাছ প্রায় মৃত অপরটি সতেজ

৬. উপাত্ত বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ: দুটি পাত্রের সব একই ছিল। তাদের মধ্যে পার্থক্য কেবল পানি ছিল। তাই বলা যায়, পানি না দেওয়াতে একটি চারা গাছ মারা যায়।

৭. ফল প্রকাশ: পরীক্ষণ এর ফল প্রকাশ করা যাবে।

উপরের পদ্ধতিগুলোর ব্যবহার করে উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য পানির প্রয়োজন কিনা তা পরীক্ষা করা যাবে।

৩। তোমার একটি বইয়ের দৈর্ঘ্য ২০ সে.মি, প্রস্থ ১৫ সে.ন্টি. এবং উচ্চতা ১ সে.মি. এরূপ ৫০ টি বই এর আয়তন কত?

দেয়া আছে, দৈর্ঘ্য ২০ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ১৫ সেন্টিমিটার, উচ্চতা ১ সেন্টিমিটার

আমরা জানি, আয়তন = দৈর্ঘ্য x প্রস্থ x উচ্চতা
সুতরাং, ১ টি বই এর আয়তন= ২০ x ১৫ x ১ ঘন সে.মি. = ৩০০ ঘন সেন্টিমিটার
তাহলে ৫০ টি বই এর আয়তন= ৩০০ x ৫০ = ১৫০০০  ঘন সে.মি

৪। আধুনিক শ্রেণীকরণ পদ্ধতিতে অ্যামিবা ও মাসুম কোন রাজ্যের অন্তর্গত, এদের বৈশিষ্ট্য লিখ?

উত্তর: অ্যামিবা: অ্যামিবা মনেরা রাজ্যের অন্তর্গত। মনেরা রাজ্যের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:

  • i. এই রাজ্যের প্রাণীগুলো এককোষী;
  • ii. এদের কষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না;
  • iii. এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। যেমন- রাইজোবিয়াম।

মাশরুম: মাশরুম ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের অন্তর্গত। এ রাজ্যের প্রায় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:

  • i. এদের দেহ সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে;
  • ii. এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়;
  • iii. দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী; যেমন- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম ইত্যাদি

৫। “সাইকাস, সুপারি গাছ, মস, কাঁঠাল গাছ, সরিষা” ছকে উল্লেখিত উদ্ভিদগুলো কোন ধরনের, তাদের বৈশিষ্ট্য লিখ;

ক. মস অপুষ্পক উদ্ভিদ। এদের বৈশিষ্ট্য-

  • i. স্পোর বা রেনু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে।
  • ii. এরা সমাঙ্গ দেহী উদ্ভিদ।
  • iii. উদ্ভিদের নায়মুল থাকে না সাধারণত। মূল এর পরিবর্তে রাইজয়েড রয়েছে।
  • iv. এরা সবুজ ও স্ব ভোজী।

খ. সাইকাস একটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ। এর বৈশিষ্ট্য-

  • i. ফুলের ডিম্বাশয় থাকে না;
  • ii. ডিম্বক গুলো নগ্ন থাকে;
  • iii. ডিম্বক পরিণত হয়ে বীজ উৎপন্ন করে।

গ. সুপারি গাছ, কাঁঠাল গাছ, সরিষা এগুলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ। এদের বৈশিষ্ট্য-

  • i. এসব উদ্ভিদের ফুলের ডিম্বাশয় থাকে।
  • ii. নিষেকের পর ডিম্বক বীজ ও ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয়।
  • iii. বীজগুলো ফলের ভেতরে আবৃত অবস্থায় থাকে।

তোমাদের জন্য আজকের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও পরিমাপ এবং জীব জগৎ আর্টিকেলটি উপহার দিয়েছেন জনাব মোহাম্মদ শহীদ উল্ল্যা, এমএসসি, এমএড

তোমাদের অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করার জন্য বাংলা নোটিশ ফেসবুক গ্রুপে দেশের বিভিন্ন নামকরা বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আলোচনা করছে।

তুমিও যোগ দিয়ে বিভিন্ন তথ্য পেতে পারো-

দেশের সকল স্তরের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চাকুরি, বৃত্তিসহ সকল অফিসিয়াল নিউজ সবার আগে পেতে বাংলা নোটিশ ডট কম এর ফেসবুক পেইজটি Like & Follow করে রাখুন;

ইউটিউবে সকল তথ্য পেতে বাংলা নোটিশ ডট কম এর ইউটিউব চ্যানেল Subscribe করে রাখুন।

তোমার জন্য নির্বাচিত কয়েকটি তথ্য:

 

আনসার আহাম্মদ ভূঁইয়া

আমি একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষা-তথ্য গবেষক এবং শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজ শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, এমপিও কার্যক্রম, উপবৃত্তি, একাডেমিক নোটিশ এবং শিক্ষানীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য যাচাই এবং সরকারি নির্দেশনার আলোকে নির্ভুল ও আপডেটেড তথ্য প্রদান করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ভরযোগ্য, অথেনটিক এবং সহজবোধ্য শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করি। প্রতিটি কনটেন্ট প্রকাশের আগে তথ্যের উৎস যাচাই, নির্দেশিকা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়, যাতে পাঠকরা সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা পান। শিক্ষা ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি দূর করা, জটিল প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা এবং দ্রুত আপডেট পৌঁছে দেওয়া— এই তিনটি বিষয়কে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি। আমার বিশ্বাস, বিশ্বস্ত তথ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্বচ্ছ উপস্থাপনই একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মের মূল ভিত্তি। সেই লক্ষ্যেই আমি নিরন্তরভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে শিক্ষাসংক্রান্ত সঠিক তথ্য সবার কাছে সহজে পৌঁছে যায়।

Related Articles

5 Comments

  1. বিজ্ঞান নবম শ্রেণি এসাইনমেন্ট /নির্ধারিত কাজ ঊওর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close

অ্যাডস্ ব্লকার পাওয়া গেছে!

দয়া করে আমাদের সাপোর্ট করার জন্য আপনার এডস্ ব্লকার ডিজেবল করে পেইজটি রিলোড করুন! ধন্যবাদ